মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
Home ব্রেকিং নিউজ নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হচ্ছে না: ফখরুল

নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হচ্ছে না: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবিার্ষিকী উপলক্ষে শেরে বাংলানগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল জয়নুল আবেদীনসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে আরকার অঞ্চলের ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ প্রবেশ করার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে মঙ্গলবার এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি, তাদের দুর্বলতা একমাত্র দায়ী এই রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহন না করা।
তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, এই রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, যারা মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছেন সেই চীন ও ভারত এই দুইটি দেশ। এই দুইটি দেশের সঙ্গে কোনো রকমের রফা করার সামর্থ এই সরকারের নেই।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এই সমস্যার বিষয়টাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী কোনো বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেননি, বিশ্ব সফর করেননি এবং জাতিসংঘে সেইভাবে গুরুত্বসহকারে বিষয়টাকে তুলে ধরতে পারেননি। যার কারণে এই রোহিঙ্গা সমস্যার বিশাল একটা বোঝা এদেশের মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে প্রায় ১১ লাখের উপরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বাংলাদেশের কক্সবাজারের আশ্রয় নিয়েছে।

‘মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সন্মান নেই’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপরে নির্যাতন চলছে, এই সরকার নির্যাতন চালাচ্ছে। আপনারা জানেন যে, এখানে যারা উপস্থিত আছেন এরা সবাই দেশের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা তারা যুদ্ধ করেছেন রণাঙ্গনে, তারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেনম সেক্টার কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদেরকেও কারাগারে যেতে হয়েছে এবং নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। শূধুমাত্র একটি কারণে তারা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা এদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, ঠিক একইভাবে গতকাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে চট্টগ্রামের বাশখালীতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যের গুন্ডারা মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা-কর্মীদের ওপরে আক্রমন চালিয়ে, আহত করেছে। একমাত্র কারণে যে, ওই সংসদ সদস্যকে কেনো সমর্থন করা হয়নি। আমরা দুর্ভাগ্যে সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেটা ভুলন্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সন্মান নেই। এখন বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা নতজানু ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করবার জন্যে সকল ষড়যন্ত্র চলছে।

১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের ঘটনায় জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রীকে জড়ানো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র, যে চক্রান্ত, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত তারই একটা অংশ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বার বার এদেশে সত্যিকার অর্থেই যারা মুক্তিযোদ্ধা, যারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছেন, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌ্মত্বে বিশ্বাস করেন, যারা নতজানু পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করেন না তাদের ওপরই এই আঘাত বার বার এসেছে। যেহেতু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেহেতু তিনি এদেশে গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেহেতু এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়ে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেছিলেন সেইজন্য তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সেই কারণে আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে, একটা কনসারটেডওয়েতে একটা প্রচারনা, প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে যে, শহীদ জিয়ার চরিত্র নিয়ে অর্থাত, মুক্তিযুদ্ধের তার যে ভুমিকা তাকে খাটো করে দেখানোর জন্য এবং তাকে এই ১৫ আগস্টের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য। আমরা বার বার বলেছি এটা একটা ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ১৫ আগস্টের যে বিচার হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিচারে যে রায় হয়েছে এবং যারা আসামী আদালত মনে করেছে তাদেরকে তারা ফাঁসিও কার্যকর করেছে। সেক্ষেত্রে আবার নতুন করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম জাড়ানোর চেষ্টাই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতের অপচেষ্টা এবং এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের চিন্তা-চেতনাকে অবমাননা বলে আমি মনে করি।২১ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে দেশনেত্রীকে জড়ানোর যে অপচেষ্টা সেটাও তারই একটা অংশ।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান- তারা এদেশের স্বাধীনতা পতাকা তুলে ধরেছেন, তারা এদেশের স্বাধীনতার পতাকাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। আজকে যেহেতু সামাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, উপনেবিশ বাদের বিরুদ্ধে, আধিপাত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান। সেই কারণে তাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করে মিথ্যাভাবে বিভিন্ন ঘটনার সাথে জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনার সাথে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এই সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করানোর জন্য তাদের যে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতে আজকে সরকার এই সব কল্পকাহিনী তৈরি করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

যুব উন্নয়নে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কার্যকর পদক্ষেপ: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদকজাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সুযোগ ও সক্ষমতার সমন্বয়ে যুব সমাজকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।...

প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরে বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি টানা একযুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় একদিকে যেমন মামলা-হামলা আর দমন-পীড়নের চাপ, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের...

প্রণব মুখার্জি আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর।

১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহনে আগের ভাড়া: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহনে আগের নির্ধারিত ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার...

Recent Comments